মাতৃ দিবস শুধু আবেগের দিন নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতারও দিন, এই বার্তাকেই সামনে রেখে এক অনন্য সামাজিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকল হাওড়ার জগাছা। নিজের মায়ের স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন প্রায় ৫০০ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দিলেন কল্যাণী রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কর্ণধার সুব্রত রায়। আর সেই উদ্যোগ ঘিরেই রবিবার উন্সানি এলাকায় তৈরি হয় এক মানবিক আবহ। স্থানীয় উন্সানি যুবক বৃন্দ ক্লাবের উদ্যোগে এবং কল্যাণী রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচি ঘিরে সকাল থেকেই উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শ্রী শ্রী বাবা পঞ্চানন্দ ও শ্রী শ্রী রক্ষাকালী মাতার পুজো উপলক্ষে ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় এই বিশেষ বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের আনন্দ যেন শুধু নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং সমাজের প্রান্তিক মানুষও সেই আনন্দে সামিল হতে পারেন, এই ভাবনাকেই বাস্তব রূপ দেন সুব্রত রায়।
এদিন ক্লাব প্রাঙ্গণে ভিড় জমে এলাকার বহু মানুষের। একে একে প্রায় ৫০০ মানুষের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয়। ছোট থেকে বৃদ্ধ, বিভিন্ন বয়সের মানুষদের মুখে তখন স্পষ্ট আনন্দের ছাপ। নতুন পোশাক হাতে পেয়েই অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের কথায়, ‘শুধু সাহায্য নয়, সম্মান দিয়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নাম সুব্রত রায়।’
সমাজসেবামূলক কাজের ক্ষেত্রে সুব্রত রায়ের নাম এলাকায় নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে এবারের উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ব্যক্তিগত আবেগও। সুব্রত রায় জানান, সমাজে এমন বহু মানুষ রয়েছেন যাঁরা উৎসবের আনন্দ থেকেও অনেক সময় বঞ্চিত থাকেন। তাঁদের মুখে সামান্য হাসি ফোটাতেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, ‘মায়ের আশীর্বাদই জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সমাজকর্মী। তাঁদের হাত দিয়েই দুঃস্থ মানুষদের হাতে তুলে দেওয়া হয় উপহার সামগ্রী। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই ছিল এক আন্তরিক ও পারিবারিক পরিবেশ। ক্লাবের সদস্যদের তৎপরতাও নজর কাড়ে সকলের। উন্সানি যুবক বৃন্দ ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু পুজো বা বিশেষ দিনেই নয়, আগামী দিনেও বিভিন্ন জনহিতকর কাজে এগিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর এই পথে কল্যাণী রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহযোগিতা তাদের আরও উৎসাহ দিচ্ছে। ক্লাব কর্তাদের কথায়, ‘সুব্রতবাবু শুধু আর্থিক সাহায্য করেন না, তিনি প্রতিটি কাজের সঙ্গে আবেগ দিয়ে যুক্ত থাকেন। সেটাই তাঁকে আলাদা করে দেয়’। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আগামী বছর উন্সানি যুবক বৃন্দ ক্লাবের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো ৭৫ বছরে পদার্পণ করবে। সেই বিশেষ বর্ষকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ক্লাবের সদস্যদের আশা, ভবিষ্যতেও একইভাবে পাশে থাকবেন সুব্রত রায় এবং কল্যাণী রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।

