কলকাতা: ভারতের রং ও লেপন (কোটিং) শিল্পে অবদানের ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘ইন্ডিয়ান স্মল স্কেল পেইন্ট অ্যাসোসিয়েশন’ (ISSPA)-এর পূর্বাঞ্চলীয় শাখা তাদের ২১তম বার্ষিক আঞ্চলিক সাধারণ সভার আয়োজন করে। শিল্পনেতা, নীতি-নির্ধারক ও উদ্যোগপতিরা প্রযুক্তি গ্রহণ, শিল্প সংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (MSME) ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে এই সভায় সমবেত হন।এই সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী শ্রী তাপস রায় এবং মাননীয় পূর্ত মন্ত্রী শ্রী অজয় কুমার পোদ্দার। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী পোদ্দার শিল্পোন্নয়নে রাজ্য সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। পশ্চিমবঙ্গকে অন্যতম প্রধান উৎপাদন ও বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোগপতি ও শিল্পপতিরাই মূল কেন্দ্রবিন্দু বলে তিনি জোর দেনউদ্ভাবন

, পরিবেশবান্ধব স্থায়িত্ব (সাসটেইনেবিলিটি) এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে এমএসএমই বাস্তুতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপের উন্মোচন করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (AI)-এর ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব উপলব্ধি করে, সদস্য সংস্থাগুলি যাতে ব্যবসায় এআই-এর প্রয়োগ ঘটাতে পারে, সে জন্য ISSPA হাত মিলিয়েছে ‘AI4BI’-এর সঙ্গে। এর ফলে একঘেয়ে কায়িক শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদিকা শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া, ‘মেম্বার কানেক্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে ব্যাবসায়িক নেটওয়ার্কিং ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে।সভার অন্যতম প্রধান উল্লেখযোগ্য দিক ছিল পূর্ব ভারতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অধিগ্রহণ এবং ব্যাবসায়িক যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলতে পশ্চিম ও উত্তর ভারতের সংস্থাগুলির ক্রমবর্ধমান আগ্রহ। এটি শিল্প হাব হিসেবে এই অঞ্চলের বাড়তে থাকা আকর্ষণেরই বহিঃপ্রকাশ।ISSPA-র পূর্বাঞ্চলীয় চেয়ারম্যান শ্রী হর্ষ বর্ধন রুংটা বলেন:”শিল্পে পরিষেবা প্রদানের ৭০ বছর পূর্তিতে প্রযুক্তি গ্রহণ, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন এবং সুদৃঢ় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এমএসএমই-গুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ভারতের শিল্প প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার পাশাপাশি আমাদের সদস্যরা যাতে বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকে, তা সুনিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব রং শিল্পের ওপর কীভাবে পড়ছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন সহ-সভাপতি শ্রী আমন লুনা এবং সম্পাদক শ্রী বিশাল গোলছা। পরিশেষে কোষাধ্যক্ষ শ্রী গুঞ্জন শাহের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
