কলকাতা, ২৭ জুলাই, ২০২৬: ভাইরাল হেপাটাইটিস এখনও বিশ্বজুড়ে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই এই রোগ যত তাড়াতাড়ি ধরা পড়বে, ততই চিকিৎসা সহজ হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৪ কোটি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত। এছাড়া প্রায় ৬০ থেকে ১২০ লক্ষ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস সি-তে ভুগছেন। তাঁদের অনেকেই বুঝতেই পারেন না যে তাঁরা আক্রান্ত, যতক্ষণ না লিভারের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা একটি বিশেষ সচেতনতা সম্মেলনের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে, মণিপাল হসপিটাল ঢাকুরিয়া, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর এবং মণিপাল হসপিটাল সল্টলেক-এর অভিজ্ঞ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও লিভার বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে হেপাটাইটিস প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি লিভারের রোগের আধুনিক চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন করেন ডা. সুজিত চৌধুরী, হেড অফ ডিপার্টমেন্ট- গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিসিন, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে; ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠী, ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস; ডা. সঞ্জয় বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মণিপাল হসপিটাল মুকুন্দপুর; ডা. দেবোত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়, কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল, মণিপাল হসপিটাল ঢাকুরিয়া; ডা. সুদীপ্ত ঘোষ, সিনিয়র কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সায়েন্স, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে; ডা. প্রশান্ত দেবনাথ, কনসালট্যান্ট – গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস; ডা. রাহুল সামন্ত, কনসালট্যান্ট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল, মণিপাল হসপিটাল ইএম বাইপাস; ডা. গৌরব ভাদুড়ি, কনসালট্যান্ট মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে; ডা. অরুণ কর্মকার, কনসালট্যান্ট মেডিক্যাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে এবং ডা. বিকাশ প্রকাশ, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি মেডিক্যাল স্পেশালিস্ট, মণিপাল হসপিটাল ব্রডওয়ে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি মণিপাল হসপিটালসের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে ডা. সঞ্জয় বসু বলেন, “বর্তমানে পেট ও হজমের সমস্যা এবং লিভারের রোগের সংখ্যা বাড়ছে। তাই মানুষকে সচেতন করা, সময়মতো রোগ ধরা এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানো খুবই জরুরি। অনেক সময় লিভারের রোগের শুরুতে কোনও লক্ষণ থাকে না। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মণিপাল হসপিটালসে আমরা একসঙ্গে বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের মাধ্যমে রোগীদের সম্পূর্ণ ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি, যাতে তাঁরা সবচেয়ে ভালো ফল পান।”
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. প্রদীপ্ত কুমার শেঠী বলেন, “হেপাটাইটিস এমন একটি রোগ, যা প্রতিরোধ করা সম্ভব, চিকিৎসা করা সম্ভব এবং অনেক ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ভালো করা যায়, যদি সময়মতো ধরা পড়ে। টিকা নেওয়া, ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা বাড়লে এবং মানুষ আগে থেকেই স্বাস্থ্য নিয়ে যত্ন নিলে হেপাটাইটিসের কারণে হওয়া জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।”

মণিপাল হসপিটালস কলকাতার লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে ডা. সুজিত চৌধুরী বলেন, “লিভার ও পাকস্থলী রোগের ভালো চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের একসঙ্গে কাজ করা এবং আধুনিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মণিপাল হসপিটালস কলকাতায় আমরা রোগ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে এন্ডোস্কোপি, কম কাটাছেঁড়ার চিকিৎসা এবং জটিল লিভারের রোগের চিকিৎসা- সব পরিষেবাই এক জায়গায় দিই। প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য, যাতে তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।”
অনুষ্ঠানে লিভারের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন ডা. দেবোত্তম বন্দ্যোপাধ্যায়, ডা. প্রশান্ত দেবনাথ, ডা. রাহুল সামন্ত, ডা. সুদীপ্ত ঘোষ এবং ডা. বিকাশ প্রকাশ। তাঁরা লিভার ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ বাড়ার কারণ, কীভাবে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়, জীবনযাপনে কী পরিবর্তন আনা দরকার, চিকিৎসার নতুন পদ্ধতি এবং যাঁদের ঝুঁকি বেশি তাঁদের নিয়মিত পরীক্ষা করানোর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞরা।
এই অনুষ্ঠানে কয়েকজন রোগীও তাঁদের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। তাঁরা জানান, সময়মতো রোগ ধরা পড়া, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ফলে কীভাবে তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
অনুষ্ঠানের শেষে ডা. দেবোত্তম বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হেপাটাইটিস এখনও বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তবে ভালো খবর হলো, টিকা নিয়ে অনেক ধরনের হেপাটাইটিস প্রতিরোধ করা যায়। আবার সময়মতো রোগ ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা বা সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব। কিন্তু বেশিরভাগ সময় লিভারের রোগ চুপচাপ বাড়তে থাকে এবং অনেক পরে লক্ষণ দেখা দেয়। তাই যাঁদের ঝুঁকি বেশি বা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা বা লিভার-সংক্রান্ত কোনও সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত রোগ ধরা এবং সঠিক চিকিৎসাই বড় ধরনের লিভারের সমস্যা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।”
এই সচেতনতা সম্মেলনে রোগী, তাঁদের পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, প্রবীণ নাগরিক এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। লিভারের স্বাস্থ্য ও হেপাটাইটিস প্রতিরোধ নিয়ে সবার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হসপিটালস কলকাতা পূর্ব ভারতের মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং লিভার ও হজমের সমস্যা উন্নত চিকিৎসা আরও শক্তিশালী করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
About Manipal Hospitals
As a pioneer in healthcare, Manipal Hospitals is among the top healthcare providers in India serving over 8 million patients annually, with a focus on providing affordable, high-quality healthcare services. Manipal’s integrated network today has a pan-India footprint of 49 hospitals across 24 cities with 12,600 licensed beds, and a talented pool of 11,000+ doctors and an employee strength of over 34000. Manipal Hospitals provides comprehensive curative and preventive care for a multitude of patients from around the globe. Manipal Hospitals is AAHRPP accredited and most of the hospitals in its network are NABH, NABL, ER, Blood Bank accredited and recognized for Nursing Excellence.
