সোনি আট-এ ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-তে ঘটি-বাঙাল দ্বন্দ্ব, হঠাৎ টিম বদল এবং উত্তেজনাপূর্ণ এলিমিনেশন

Published:

কলকাতা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬: ঘটি না বাঙাল? এই বিতর্ক যখন খাবার টেবিল পেরিয়ে পৌঁছে যায় সোনি আট-এর রাঁধুনি না কাঁদুনি-র রান্নাঘরে, তখন যে বিনোদনের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। আসন্ন পর্বগুলিতে খাবার, বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা এবং টানটান উত্তেজনার মেলবন্ধনে হাজির হতে চলেছে ঘটি বনাম বাঙাল চ্যালেঞ্জ। তবে এখানেই শেষ নয়। পরের পর্বে আচমকাই বদলে যাবে টিমের সমীকরণ। নতুন পার্টনারশিপের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি শেষপর্যন্ত অপেক্ষা করছে এলিমিনেশনের চাপও।

ঘটি বনাম বাঙাল পর্বের শুরুতেই থাকছে একটি ‘Mystery Bag’ চ্যালেঞ্জ। এরপর প্রতিযোগীদের রাঁধতে হবে বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় কিছু পদ। নিজেদের পক্ষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে দুই দল যখন রান্নাঘরে নেমে পড়বে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই চিরচেনা ঘটি-বাঙাল টক্করও ঢুকে পড়বে রান্নার লড়াইয়ে। আর এই সমীকরণে আরও মজার মাত্রা যোগ করবেন কাঞ্চন মল্লিক এবং শ্রীময়ী চট্টোরাজ মল্লিক। তাঁদের বাস্তব জীবনের সম্পর্কের রসায়নে জমে উঠবে খুনসুটি ও মজার কথোপকথন। পাশাপাশি, এই পর্বে উঠে আসবে ‘soul food’-এর ধারণাও – কীভাবে কিছু খাবার আমাদের স্মৃতি, আবেগ এবং বাড়ির অনুভূতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে, সেই গল্পও বলবে এই পর্ব।

সোনি আট-এ ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’-তে ঘটি-বাঙাল দ্বন্দ্ব, হঠাৎ টিম বদল এবং উত্তেজনাপূর্ণ এলিমিনেশন

টিমের সঙ্গে কিছুটা মানিয়ে নেওয়ার আগেই পরের পর্বে আসতে চলেছে নতুন চমক – ‘Swap’। পরিচিত পার্টনারদের আলাদা করে জুড়ে দেওয়া হবে নতুন সতীর্থদের সঙ্গে। ফলে নতুন পার্টনারের সঙ্গে টিমওয়ার্ক এবং কিচেন কেমিস্ট্রি কতটা জমে, সেটাই হয়ে উঠবে নতুন চ্যালেঞ্জ। মিস্ট্রি ব্যাগে থাকবে পাস্তা, যার পরেই আসবে সোয়া গালৌটি কাবাব। নতুন পার্টনারের সঙ্গে দ্রুত বোঝাপড়া তৈরি করে একসঙ্গে কাজ করতে হবে প্রতিযোগীদের। কিন্তু নতুন টিমের স্কোর যখন যোগ হবে আগের স্কোরের সঙ্গে, তখন বাড়বে চাপ। আর সর্বনিম্ন স্কোর করা দলকে মুখোমুখি হতে হবে এলিমিনেশন রাউন্ডের। মজার ছলে শুরু হওয়া পার্টনার বদলের এই খেলা খুব দ্রুতই পরিণত হবে এক কঠিন প্রতিযোগিতায়।

চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে কাঞ্চন মল্লিক বলেন, “ঘটি-বাঙাল থিমটা আমার কাছে বিশেষভাবে মজার ছিল, কারণ দুই পরিচয়ের সঙ্গেই খাবারের একটা গভীর আবেগ জড়িয়ে আছে। তার সঙ্গে একটু প্রতিযোগিতা যোগ হলেই ব্যাপারটা আরও জমে যায়! শ্রীময়ীর সঙ্গে কাজ করাটা সবসময়ই একটু অন্যরকম, কারণ আমরা একে অপরকে এত ভালোভাবে চিনি যে খুনসুটি এমনিতেই চলে আসে। তবে টিম আর রান্নার ব্যাপারে আমাদের ব্যক্তিগত সমীকরণ কখনওই প্রতিযোগিতার পথে আসতে দিইনি।”

শ্রীময়ী চট্টোরাজ মল্লিক যোগ করেন, “এই পর্বটাকে এত মজার করে তুলেছিল রান্নার মধ্যে ঘটি-বাঙাল প্রতিদ্বন্দ্বিতাটা যেভাবে স্বাভাবিকভাবেই চলে এসেছিল। খাবার কত স্মৃতি আর আবেগ ফিরিয়ে আনে! আর ঘটি-বাঙাল এমন একটা বিষয়, যেটা আমরা সবাই বাড়িতে ছোটবেলা থেকে আলোচনা করতে করতে বড় হয়েছি। কাঞ্চন আর আমি যখন দুই বিপরীত দলে ছিলাম, তখন মজাটা আরও বেড়ে গিয়েছিল – চলেছে প্রচুর খুনসুটি আর একে অপরকে টেনে কথা বলা। এমন একটা দিন ছিল, যেখানে খাবার, আড্ডা আর মানুষ – সবকিছু যেন একসঙ্গে মিলে গিয়েছিল।”

শো-এর সঞ্চালক অঙ্কুশ হাজরা বলেন, “এই শো-এর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, কখন যে একটা সাধারণ রান্নার চ্যালেঞ্জ অনেক বড় কিছুতে পরিণত হবে, সেটা কখনও আগে থেকে বোঝা যায় না। ঘটি-বাঙাল পর্বে প্রতিযোগীদের ব্যক্তিত্ব আর আবেগ – দুটোই খুব সুন্দরভাবে সামনে আসে। তারপর সোয়াপ পুরো খেলাটাই বদলে দেয়! হঠাৎ যাঁরা নিজেদের পার্টনারের সঙ্গে বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন, তাঁদের নতুন করে একে অপরকে বুঝে নিতে হয়। আর তাতেই প্রতিযোগিতা আরও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। তবে সবচেয়ে বড় মুহূর্ত হল এলিমিনেশন। তখনই সবাই বুঝতে পারে, এই মজা আর খেলার মধ্যেও প্রতিযোগিতার চাপটা কিন্তু একেবারেই সত্যি।”

দেখতে থাকুন ‘রাঁধুনি না কাঁদুনি’, প্রতি সোম থেকে শুক্র রাত ৮টায়, সোনি আট এবং Sony LIV-এ।

Related articles

Recent articles