‘আলো – ৩৬০° আলোকোজ্জ্বল অরণ্য’ ভাবনার আনুষ্ঠানিক উন্মোচন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পার্নো মিত্র
কলকাতা: মহালয়ার পুণ্যলগ্নে দেবীপক্ষের সূচনা ও শারদোৎসবের আগমনকে স্বাগত জানিয়ে সাফল্যের সঙ্গে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক অনুষ্ঠান ‘চক্ষুদান উৎসব’-এর আয়োজন করল সল্টলেকের এ ই ব্লক সমাজ কল্যাণ সংঘ। সল্টলেকের এ ই ব্লক পার্ট ২ পুজোমণ্ডপে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা, বিষয়বস্তু নির্মাতারা এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল দেবী দুর্গার চক্ষুদানের পবিত্র আচার। বিশিষ্ট প্রতিমাশিল্পী সৈকত বসুর তুলির স্পর্শে দেবীর চোখ আঁকার এই বিশেষ পর্ব সম্পন্ন হয়। এই তাৎপর্যপূর্ণ আচার দেবীপক্ষের সূচনা এবং শারদোৎসবের আগমনী বার্তাকে আরও মহিমান্বিত করে তোলে।
এ বছরের পুজোর ভাবনা ‘আলো – ৩৬০° আলোকোজ্জ্বল অরণ্য’-এর আনুষ্ঠানিক উন্মোচন ছিল অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য আকর্ষণ। খ্যাতনামা সৃজনশীল জুটি শিবাজি পাল ও বাবলু সিংহের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় গড়ে উঠেছে এই অভিনব ভাবনা। আলোকোজ্জ্বল অরণ্যের নান্দনিক উপস্থাপনা, নিখুঁত স্থাপত্যশৈলী, উজ্জ্বল পদ্মফুলের নকশা এবং মনোমুগ্ধকর আলোকসজ্জা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। আলো ও আশার এক অপূর্ব জগতে প্রবেশের অভিজ্ঞতা দিচ্ছে এই অভিনব উপস্থাপনা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পার্নো মিত্র। পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে তিনি প্রদীপ প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ও উৎসবের আবহকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।
অনুষ্ঠানে সংস্থার সভাপতি সুরজ চোকানি এবং আহ্বায়ক রুদ্রদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই আয়োজনকে সফল করে তোলার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংস্থার সভাপতি মণিময় সাহা বলেন, “এ বছর আমরা কলকাতার মানুষের জন্য এক স্মরণীয় দৃশ্যগত ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা উপহার দিতে চেয়েছি। ‘আলো’ ভাবনা অন্ধকারের উপর আলোর জয়ের প্রতীক। উৎসবের দিনগুলিতে শহরের সর্বস্তরের মানুষকে আমাদের ৩৬০° আলোকোজ্জ্বল অরণ্যের অভিজ্ঞতা নিতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।”
সংস্থার নেতৃত্ববৃন্দের মধ্যে সম্পাদক তাপস কান্তি সেনগুপ্ত এবং কোষাধ্যক্ষ অসীম বসু ও সঞ্জুক্তা মজুমদার সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি এই অভিনব ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য পুজো কমিটির সদস্য, শিল্পী ও কারিগরদের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
মনোমুগ্ধকর দৃশ্যসজ্জা ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যের মেলবন্ধনে এ ই ব্লক সমাজ কল্যাণ সংঘের এবারের দুর্গাপুজো সল্টলেকের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠার প্রত্যাশা রাখে। পুজোমণ্ডপটি এখন সর্বসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত।
